Service

মেনু নির্বাচন করুন
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান
27 Sep 2026 Admin

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান

আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩১) সামনে রেখে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউএবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, পরিবেশ ও নদীরক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ বাংলাদেশ), সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) এবং ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

সভাপতিত্ব করেন ইআরপিডিএফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও ক্লিন এনার্জি উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থান আরও জোরালো করতে হবে।

একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।

 

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত মনিটরিং ব্যবস্থার বিকল্প নেই। নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণ ঘটাতে পারলে পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের (সিইআরসি) উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি তহবিল এবং কপের জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সুমন বলেন, জলবায়ু নীতি নির্ধারণে তরুণদের শুধু দর্শক বা ধারণার উৎস হিসেবে রাখলে চলবে না; মাঠপর্যায়ে তাদের প্রত্যক্ষ বাস্তবায়নকারী হিসেবে সম্পৃক্ত করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

মো. শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মীর মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ রকিব, মাকসুদ হোসেন, রুবাইয়া নাসরিন সেঁজুতি, মাহবুব সুমন ও আল-আমিন প্রান্ত।

দিনব্যাপী সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।