মানুষসহ পৃথিবীর সকল প্রাণীর জন্য পরিবেশ ও নদ-নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।পরিবেশই হলো প্রাণের ধারক।পরিবেশের ওপর নির্ভর করে মানুষ বা অন্য যে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর জীবনের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে।প্রতিটি জীবই বাঁচার জন্য নিজ নিজ পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে।সে পরিবেশ যদি কোনো কারণে দূষিত হয় এবং নদীগুলো যদি ধংস হয়ে যায় তবে তা জীবের অস্তিত্বে জন্য হুমকিস্বরূপ।বাংলাদেশ পৃথিবীর উন্নয়নশীল একটি দেশ।একটি দেশের উন্নয়নে প্রধান শর্ত তার পরিবেশ ও নদ-নদী।এক সময়ে বাংলাদেশকে জালের মতো ঘিরে ছিল প্রায় ১৩শত নদী।বর্তমানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায় ১৪১৫টি নদী।অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ এর তালিকায় দেখানো হচ্ছে মাত্র ৪০৫টি নদীর অস্তিত।একদিকে চলছে নদী দখলের মহা উৎসব, অন্যদিকে অবিরাম নদী দূষণ।ফলাফল অকাল বন্যা, খরা, ভূমিধস, সাইক্লোনসহ নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
তাই জলবায়ু ঝুঁকিহ্রাসের লক্ষ্যে প্রকৃতি পরিবেশ ও নদ-নদী রক্ষায় সারাদেশ ব্যাপি সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে জনাব এইচ এম সুমন প্রকৃতির টানে ২০১৮ সাল থেকে ৬ জন সদস্য নিয়ে প্রকৃতি পরিবেশ ও নদ-নদী সুরক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।যার ফলস্রুতিতে জন্ম নেয় পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন(ইআরপিডিএফ)। শুরুর দিকে পরিবেশ ও নদী রক্ষায় বিভিন্ন এ্যাওয়ারনেস কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি, নদী দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা সেমিনার মানববন্ধন করে আসছিল।পরবর্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে ২০২১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জয়েন্টস্টক কোম্পানী থেকে ছাড়পত্র লাভ করে বিভিন্ন জেলা কমিটির মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকেন ইআরপিডিএফ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব এইচ এম সুমন।
ইআরপিডিএফ এর রয়েছে ১৩ জনের একটি কার্যনির্বাহ প্যানেল, রয়েছে উপদেষ্টা প্যানেল,আইনজীবি প্যানেল, কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা কমিটি, মহানগর কমিটি ও থানা কমিটি। বর্তমান এই ফাউন্ডেশনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১১৫০ জন।
পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতি বছর জাতিয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস উদযাপনে সফলতার সাথে অংশ গ্রহণ করে আসছে।বিশ্ব পরিবেশ দিবস, বিশ্ব নদী দিবস, বিশ্ব নদী কৃত্য দিবস, বিশ্ব পানি দিবস সহ পরিবেশ ও নদী সম্পর্কিত সকল দিবসে পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের স্বতস্ফুত অংশগ্রহণ করেন।এছাড়াও নিয়মিত জাতীয় নদী সম্মেলনেও অংশগ্রহন করে আসছে পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন।পাশপাশি দেশের অবহেলিত নদী গুলোর ড্রেজিংএর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করে একাদিক নদীর প্রাণ ও নদীর অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব এইচ এম সুমন মনে করেন পরিবেশ ও নদীকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সকলের সমান ভাবে অংশ গ্রহণ, সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।নদী সুরক্ষা, নদী খনন ও শাসন, পলি অপসারণ, নদীর দুই তীরের শোভা বর্ধন এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষগুলোকে।এছাড়া সরকারী বিভিন্ন সংস্থার সমন্বেয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকদের সচেতন করে গড়ে তুলতে নানাবিদ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।অত্র ফাউন্ডেশন পরিবেশের ভার্সম্য রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএ এর সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।নদী সুরক্ষার বিষয়ে জাগরণ/আলোড়ন সৃষ্টি করে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই নদী ও পরিবেশ দূষণের ৮০% রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছে পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন(ইআরপিডিএফ এর সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এইচ এম সুমন।তিনি আরও বলেন আমরা সচেতন না হলে সরকারের একার পক্ষে দূষণ রোধ করা সম্ভব নয় এবং একক দায়বদ্ধতা নয়।এই মুহুর্ত হতে সচেতন না হলে আমরা অনেক ক্ষেত্রে যেমন এগিয়ে যাচ্ছি, আবার কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে । আমরা চাইনা পিছিয়ে পড়তে ।তাই আমাদের সকলকে জলবায়ু ঝুকি হ্রাসের লক্ষে প্রকৃতি,পরিবেশ ও নদীর প্রতি আরো বেশি দরদী হতে হবে।
আমাদের উদ্দেশ্য
সুস্থ্য পরিবেশ,দূষণ মুক্ত নদী ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত কল্পে প্রকৃতি,ও নদ নদী মানব সংস্কৃতি ও উন্নেষ এবং ক্রমবিকাশের সঙ্গে নদী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমরা বিশ্বাস করি রাস্ট্র এবং দেশের আপমর জনগণ দেশের কল্যাণে নদ-নদী রক্ষায় উদ্যোগী হবে।
সবাই মিলে গড়বো দেশ, দূষণ মুক্ত বাংলাদেশ।